ঢাকা শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬ , ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুমার দিনে দরুদ শরীফ পড়ার ফজিলত

অনলাইন ডেস্ক
২ ঘন্টা আগে
জুমার দিনে দরুদ শরীফ পড়ার ফজিলত
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি দরুদ পাঠ মুমিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এর মাধ্যমে নবীপ্রেমের বহিঃপ্রকাশ ঘটে এবং আল্লাহর রহমত লাভের সুযোগ তৈরি হয়। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ নিজেই নবীজির প্রতি দরুদ পাঠের কথা উল্লেখ করে মুমিনদেরও এ আমলের নির্দেশ দিয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতারা নবীর প্রতি দরুদ পাঠ করেন। হে ঈমানদাররা, তোমরাও তাঁর প্রতি দরুদ পাঠ করো; এবং বেশি পরিমাণে সালাম পাঠ করো।’ (সুরা : আহজাব, আয়াত : ৫৬)

আলোচ্য আয়াতে আল্লাহর দরুদ পাঠের অর্থ হলো, তিনি ফেরেশতাদের সামনে নবীজির প্রশংসা করেন। আর ফেরেশতাদের দরুদ পাঠের অর্থ হলো, তাঁরা নবীজির জন্য বরকতের দোয়া করেন। (ফাতহুল বারি : ৮/৩৯২)

দরুদ পাঠের অন্যতম ফজিলত হলো, একবার দরুদ পড়লে আল্লাহ তাআলা বান্দার প্রতি ১০টি রহমত নাজিল করেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমার প্রতি একবার দরুদ পাঠ করে, আল্লাহ তাআলা তার প্রতি ১০টি রহমত বর্ষণ করেন।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ৪৮৫)

বিশেষ করে জুমার দিন নবীজির প্রতি বেশি বেশি দরুদ পাঠের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আওস ইবন আওস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের দিনগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠতম দিনটি হচ্ছে জুমার দিন। এই দিনে আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছিল। এই দিনই তাঁর রুহ কবজ করা হয়েছিল, এই দিন (কিয়ামতের সময়) শিঙায় ফুত্কার দেওয়া হবে এবং এই দিনই বিকট শব্দ করা হবে। কাজেই এই দিন তোমরা আমার ওপর বেশি করে দরুদ পড়ো। কারণ তোমাদের দরুদগুলো আমার কাছে পেশ করা হয়।’

সাহাবিরা জানতে চাইলেন, মৃত্যুর পর তাঁর দেহ মাটিতে মিশে গেলে কীভাবে দরুদ পেশ করা হবে? তিনি বলেন, ‘মহান আল্লাহ মাটির জন্য নবী-রাসুলদের দেহ (ভক্ষণ করা) হারাম করে দিয়েছেন।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ১০৪৭)

অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, আনাস ইবন মালিক (রা.) থেকেও বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা জুমার দিন ও জুমার রাতে আমার প্রতি বেশি বেশি দরুদ পাঠ করো। কারণ যে আমার প্রতি একবার দরুদ পাঠ করে আল্লাহ তার ওপর ১০টি রহমত নাজিল করেন।’ (সহিহুল জামে, হাদিস : ১২০৯)

সুতরাং জুমার দিনের বরকতপূর্ণ সময়কে দরুদ পাঠের মাধ্যমে সমৃদ্ধ করা প্রত্যেক মুমিনের জন্য সৌভাগ্যের বিষয়। আসুন, আমরা নিয়মিত নবীজির প্রতি দরুদ পাঠ করি এবং তাঁর সুন্নাহ অনুসরণের মাধ্যমে ভালোবাসার প্রমাণ দিই। মহান আল্লাহ আমাদের আমল করার তাওফিক দান করুন।





কমেন্ট বক্স